বিশ্ব খবর

ভারতের থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সংখ্যালঘুদের নির্বাচনী অধিকার বেশি!

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনকে ঘিরে দেশজুড়ে তুমুল প্রতিবাদ চলছে। আইনটির পক্ষে ব্যাপক যুক্তি দিয়ে নিজেদের করা আইনের পক্ষে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে শিখ ও হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হয় ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
কিন্তু আসলেই কি আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ভোট দেয়া বা নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার নেই?

পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নির্বাচনী অধিকার
পাকিস্তানের সংবিধানের আর্টিক্যাল ৫১(২-এ) অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের দশটি আসন সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত।

মোট ৩৪২টি আসনের মধ্যে ২৭২টিতে সরাসরি ভোট হয় সেখানে। আর দশটি সংখ্যালঘুদের জন্য ও ৬০টি নারীদের জন্য।

দুভাবে সংখ্যালঘুদের পার্লামেন্টে যাওয়ার সুযোগ আছে পাকিস্তানে।

১. দশ সংরক্ষিত আসন দলগুলোর মধ্যে আসন অনুপাতে ভাগ হয়। দলগুলো নিজেরা প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে তাদের সংসদে পাঠায়।

২. আরেকটি উপায় হলো সংখ্যালঘু যে কেউ সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। সেখানে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ আছে।

নিজের আসনে যে কাউকে ভোট দিতে পারে সেখানকার সংখ্যালঘুরা। ভোটের অধিকারও সবার জন্য সমান।

এমনটি দেশটির সংবিধানেও সংখ্যালঘুদের প্রতি সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে।

তাই বলা যায় শুধু সংরক্ষিত আসনেই না, অন্য আসনেও চাইলে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে মহেশ মালানি, হরিরাম কিশোয়ারি লাল ও জ্ঞান চাদ আসরানি সরাসরি আসনে নির্বাচন করেছিলেন পার্লামন্টে ও প্রাদেশিক পরিষদে এবং তারা পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন।

আফগানিস্তানে হিন্দু ও শিখদের নির্বাচনী অধিকার
দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতা মোকাবেলা করছে আফগানিস্তান। এখানেই ভিত্তি গড়েছিলো আল কায়েদা। ২০০২ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর হামিদ কারজাই প্রথম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। এরপর ২০০৫ সালে নির্বাচন হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দেশটির জনসংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখ।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হেসেবে হিন্দু ও শিখ সংখ্যালঘু মাত্র এক থেকে দেড় হাজার।

সংসদের নিম্নকক্ষে ২৪৯টি আসন আছে যেখানে প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচিত হন।

সংখ্যালঘুরা তাতে অংশ নিতে পারেন।

তবে সেখানে নির্বাচন করতে একজন প্রার্থীকে ৫ হাজার ব্যক্তিকের সমর্থন দেখাতে হয় মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়েই।

এই আইন সবার জন্য সমান তবে সংখ্যালঘু কারও এতো মানুষের সমর্থন যোগাড় করা কঠিন।

২০১৪ সালে আশরাফ গনির সরকার হিন্দু শিখদের জন্য সংসদের নিম্নকক্ষে একটি আসন সংরক্ষণ করে।

সেসময় নারিন্দার পাল সিং সংসদে এসেছিলেন। এর বাইরে উচ্চকক্ষেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আসন সংরক্ষিত আছে। এখন দুজন এমপি আছেন সেখানে। প্রেসিডেন্ট তাদের মনোনীত করেছেন।

এর বাইরে সংখ্যালঘুরা নিজ আসনে যাকে খুশী ভোট দিতে পারেন। তারা যে কোনো জায়গায় নির্বাচনও করতে পারেন যদিও ৫ হাজার লোকের সমর্থন যোগাড় করতে পারেন।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্বাচনী অধিকার
সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো আসন সংরক্ষিত নেই কিন্তু নারীদের জন্য ৫০টি আসন আছে।

বাংলাদেশের পার্লামেন্টে ৩৫০ আসনের মধ্যে ৫০টি সংরক্ষিত নারীদের জন্য।

২০১৮ সালের নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগের সংসদেও সম সংখ্যক সংখ্যালঘু এমপি ছিলেন।

ভারতে সংখ্যালঘুদের নির্বাচনী অধিকার
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী নিম্নবর্ণের ও উপজাতীয়দের জন্য লোকসভা ও রাজ্যসভায় আসন সংরক্ষনের বিধান আছে। কিন্তু সংখ্যালঘুদের জন্য কোন আসন সংরক্ষন নেই!

লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৭৯টি নিম্নবর্ণের ও ৪১টি টি উপজাতীয়দের।
রাজ্য সভাগুলোতে ৩ হাজার ৯৬১ টি আসনের মধ্যে এগুলো আছে যথাক্রমে ৫৪৩ ও ৫২৭ টি আসন।
এসব আসনে প্রার্থীও হবেন এ দুটি গোষ্ঠী থেকে।
এর মানে হলো ভারতে সংরক্ষিত আসন নির্দিষ্ট শ্রেণীর জন্য, তবে ভোট দিতে পারবে সবাই।
দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন দেয় কিন্তু তাদের নির্বাচিত হওয়া নির্ভর করতে সবার ভোটের ওপর।

Related Post