পর্যটন

ঘুরে আসুন করমজল

রাফি আলমঃ সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন করমজল একটি পর্যটন কেন্দ্র। খুলনা জেলার দাকোপা উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নে করমজলের অবস্থান। পশুর নদী তীরের প্রাকৃতিক বন ঘেরা ছায়া সুনীবিড় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরণ দেখে চোখ জুড়ায় পর্যটকদের। ভয়মুক্ত প্রাকৃতিক বন আর উন্নত পর্যটন সুবিধা থাকার কারণে করমজল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। বন বিভাগের উদ্যোগে সরকারি সহায়তায় বন-বনানী সমৃদ্ধ দ্বীপটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
করমজল গেলে চোখে পড়বে চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির, হরেক প্রজাতির পাখি, কাঠবিড়ালীসহ হরেক প্রাণি। মৌমাছির শত শত মৌচাক চোখে পড়বে ফুড ট্রেইলে হাঁটার পথে। নিরাপদে বনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ঘুরে দেখার প্রয়োজনে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে দেড় কিলোমিটার লম্বা একটি কাঠের ট্রেইল। ট্রেইলটির নাম মাঙ্কি ট্রেইল। পথজুড়ে দেখা মিলবে এখানকার বাসিন্দা রেসাস বানরের। বাদাম, কলা ইত্যাদি খাবার হাতে নিয়ে বানরগুলোকে লোভ দেখালে ওরা কাছে এসে মানুষের হাত থেকে এগুলো লুফে নেয়।
উপর থেকে সমগ্র বনের দৃশ্য অবলোকনের জন্য ৪৫ ফুট উঁচু একটি টাওয়ার রয়েছে করমজলে। প্রবেশপথের নিকটেই চিড়িয়াখানার আদলে খাঁচাঘেরা জায়গায় রাখা হয়েছে ছোট-বড় অনেকগুলো হরিণ। সরকার পরিচালিত বাংলাদেশের একমাত্র লবণ পানির কুমির ও বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে এখানে। এখানে রয়েছে রোমিও, জুলিয়েট ও পিলপিল নামে ৩টি বড় কুমির। পাশাপাশি একাধিক চৌবাচ্চায় ২০০-৩০০টি বিভিন্ন আকারের কুমিরের বাচ্চা দেখা যাবে। দৈর্ঘে ২ মিটার লম্বা হলেই কুমিরের বাচ্চাগুলোকে নদীর জলে অবমুক্ত করা হয়।

রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলী থেকে বাগেরহাট ও মংলার বাস ছাড়ে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায়। বাসে যেতে হবে মংলা পর্যন্ত। মংলা বন্দর থেকে আট কিলোমিটার দূরেই করমজল। এখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যেতে হবে। এছাড়া খুলনা থেকে নদীপথেও যাওয়া যাবে। নদীপথে খুলনা থেকে করমজলের দুরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। খুলনার দাকোপ উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিমি দূরত্ব। মোড়লগঞ্জ, শরণখোলা, রূপসা থেকেও করমজল যাওয়া যায়।

খুলনা ও মংলায় রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আবাসিক হোটেল। এছাড়াও করমজলের আশেপাশের টুরিস্ট পয়েন্টগুলোতে রয়েছে বেশ কিছু রেস্ট হাউজ। সুতরাং রাতযাপনের কোনো সমস্যা হবে না।

Related Post